০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

তিন বছর আগের হত্যাকাণ্ড: লালমনিরহাটে স্বামীর ফাঁসির আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৬
তিন বছর আগের হত্যাকাণ্ড: লালমনিরহাটে স্বামীর ফাঁসির আদেশ ছবিঃ সংগৃহীত

স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার মামলায় স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন লালমনিরহাটের আদালত। সেই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে গলায় ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণী ও এজাহার অনুযায়ী, লালমনিরহাট সদর থানার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে আনুমানিক দুই বছর আগে বিয়ে হয় মোছা. মিতু আক্তারের। তাঁদের ৫ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নানা পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে মিতুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আতিকুল। কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু বাধা দেন; এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাঁর মাথায় ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন আতিকুল, পরে ঘরের উঠানে থাকা শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মিতু আক্তারের, এরপর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান আতিকুল।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুসন্তান আতিকা আক্তারের কান্না শুনে প্রতিবেশীরা এসে বিছানায় মিতুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় এবং ২০২৪ সালের ৪ জুলাই বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠন হয়। মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর আজ রায় দেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন এবং এ রায়ে অপরাধীদের কাছে কঠোর বার্তা যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে; রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সুযোগ পাবেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। রায়ে বাদীপক্ষও সন্তোষ প্রকাশ করেছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ